রামদাদা বৈষ্ণব মানুষ। মাংস তো তিনি কখনও খান নাই; মাছ কখনো খাইতেন, কখনো বা খাইতেন না। এক দিন রামদাদা পরমহংস মশাইকে বলিয়াছিলেন, "সুরেশ মিত্তির মদ খায়। তাকে বারণ করুন, যেন সে আর মদ না খায়।" - সুরেশ মিত্তির সওদাগরী অফিসের মুৎসদ্দী ছিলেন। তাঁহাকে সারা দিন খাটিতে হইত; এইজন্য সন্ধ্যার সময় 'কারণ'1 করিয়া অনেক সময় জপ করিতেন। কিন্তু এক এক সময় কারণের মাত্রা একটু বেশি হইয়া যাইত; তখন তিনি পরমহংস মশাই-এর বিষয় অধিক মাত্রায় কথা কহিতেন, তবে অন্য কোনো বিষয়ে চাঞ্চল্য হইত না। পরমহংস মশাই রামদাদার ঐ কথা শুনিয়া বিরক্ত হইয়া বলেন, "সুরেশ মদ খায়, তাতে তোর কি! ওর ধাত আলাদা, ও নিজের পথে যাবে।" সুরেশ মিত্তির আসিলে পরমহংস মশাই বলিলেন, "ইচ্ছে হয় তো মদ খেয়ো, কিন্তু যেন পা টলে না, মন টলে না।" আমরাও তদবধি দেখিতাম যে, সুরেশ মিত্তির সন্ধ্যার সময় কারণ করিয়া উপরের ছাদের পাঁচিলের পাশে বসিয়া নিম্নস্বরে শ্যামা-বিষয়ক গান শুরু করিতেন; তাহার পর, কণ্ঠস্বর উচ্চ হইত; ক্রমে করুণ স্বরে রোদন আরম্ভ করিতেন। পরে ক্রন্দনের মাত্রা এত অধিক হইত যে, আশ-পাশের সব বাড়ি হইতে উহা শুনা যাইত। মিত্তিরদের বাড়ি আমাদের বাড়ির ভিতরের দিকটার সংলগ্ন ছিল। এইজন্য আমরা তাঁহার ক্রন্দনের স্বর শুনিতে পাইতাম এবং তিনি উপরের ছাদে বসিয়া ক্রন্দন করিতেছেন, স্পষ্ট দেখিতে পাইতাম।
1. তন্ত্রসাধনার উপকরণ, মদ্য।↩
No comments:
Post a Comment