পরমহংস মশাই-এর এক প্রকার বিভ্রান্ত অবস্থা অনেক বার দেখিয়াছি। ইহা সাধারণ বিভ্রান্তচিত্ততা নহে কিন্তু অতি উচ্চ অবস্থা। এত সূক্ষ্ম-স্নায়ুতে তাঁহার চিৎ-শক্তি যাইত যে, সেখান হইতে স্থূল-স্নায়ুতে সেই শক্তিকে ফিরাইয়া আনা কষ্টকর। এইজন্য এইরূপ বিভ্রান্ত অবস্থা হইত। চিৎ-শক্তি যখন অতি সূক্ষ্ম-স্নায়ুতে গমন করিয়া স্থূল-স্নায়ুর দিকে নামিতে থাকে, তখন উহা কোন শ্রেণীর স্নায়ুর ভিতর প্রধাবিত হইবে, তাহা স্থির করিতে না পারিয়া, হয়ত কর্ণ দিয়া দেখিবার প্রয়াস পায়, চক্ষু দিয়া শুনিবার প্রয়াস পায়। মস্তিষ্কে দৃষ্টি ও শ্রবণের স্নায়ুকেন্দ্র পরস্পর সন্নিকট ও সংশ্লিষ্ট এইজন্য, শক্তি এক কেন্দ্র হইতে অপর কেন্দ্রে চলিয়া যায়; তাহার পর কিঞ্চিৎ বিরামের পর, অভীষ্ট স্নায়ুতে শক্তি প্রধাবিত হয়। সমাধি অবস্থার পর যখন স্থূল দেহে চিৎ-শক্তি প্রত্যাবর্তন করে তখন ঠিক এইরূপ হইয়া থাকে।
No comments:
Post a Comment